ঢাকাসোমবার , ৬ মার্চ ২০২৩
  1. ই পেপার
  2. ক্যাম্পাস
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জাতীয়
  6. জীবনযাপন
  7. ধর্ম
  8. পাঠক কলাম
  9. পাবনা জেলা
  10. বাণিজ্য
  11. বাংলাদেশ
  12. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, বাঙালীর মুক্তি ও স্বাধীনতার অমোঘবাণী

বার্তা কক্ষ
মার্চ ৬, ২০২৩ ৭:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সোহাগ চোকদার

অগ্নিঝরা ১৯৭১ পূর্ব বাঙালী জাতি যতোবার নিজেদের অধিকারের কথা বলেছে, অধিকার আদায়ে আন্দোলন করেছে ততোবারই বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে। উপনেবিশেকের দু’শ বছর, ১৯৪৭ এ দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্ম ভিত্তিক দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিমাদের শাসনামলের ২৩ বছর। বলা চলে আজন্মই বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রেখেছে রাজা ধিরাজ, শাসকচক্ররা ‌। সর্বোচ্চ জুলুম অত্যাচার নির্যাতন নীপিরণের স্বীকার হয়েছি আমরা হায়েনাদের শাসনামলে। খুদিরাম থেকে প্রীতিলতা সূর্যসেন, নেতাজী, শেরে বাংলা , সরওয়ার্দী হয়ে অবশেষে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনঃগঠনের মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতি খুঁজে পেয়েছে স্বাধীনতার সূর্যসন্তান,পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠতম অকুতোভয় দুঃসাহসিক হার না মানা সংগ্রামী নেতা, বাঙালীর হাজার বছরের আরোধ্য পুরুষ, অবিসংবাদিত মহান নেতা শেখ মুজিব’কে।
৫২’র ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব তার ভবিষৎ নেতৃত্বের অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সূচনা করেন। আর বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনেই বাঙালীর স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিলো। ৫২ থেকে ৬৯ সময়ের সবগুলো আন্দোলনে ফলপ্রসূ নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে শেখ মুজিব নিজেকে বঙ্গবন্ধু হিসেবে গোটা বাঙালী জাতির সম্মূখে তুলে ধরতে সক্ষম হন, স্বীকৃত হন “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে।
ততোদিনে বঙ্গবন্ধু নিজেকে জাতির একমাত্র দিক নির্দেশক প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বৈকি।
তাইতো স্বাধীনতার চূড়ান্ত সময়ক্ষণের সূচনাতে ৭১ এর অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন থেকেই পূর্ববাংলা পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনায়।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু তার প্রায় ১৯ মিনিট সময়ের ১১০৬ শব্দের ভাষণে বাঙালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলেছেন। বাঙালীর অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক , সামাজিক , সাংস্কৃতিক মুক্তির কথা বলেছেন। তিনি বাংলায় বসবাস কারী বাঙালী নন বাঙালী, হিন্দু মুসলিম সহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে রক্ষা করা দায়িত্ব আমাদের সেই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। শাসক গোষ্ঠিকে তিনি প্রশ্ন করেছেন কি অপরাধ করেছি আমরা ? কি অপরাধ করেছে বাংলার মানুষ, আমাদের অর্থ দিয়ে বর্হির শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে যে অস্ত্র কেনা হয়েছে ,সেই অস্ত্র ব্যবহার করে আমার বাংলার মানুষদেরকে হত্যা করা হচ্ছে! রক্তের দাগ শুকায় নাই।
২৫ তারিখে এসেম্বেলি কল করা হয়েছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছি ঐ শহীদের রক্তের উপর পারা দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এসেম্বেলীতে যাবে না। জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন শত্রু বাহিনী ঢুকে পড়েছে , নিজেদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করবে। আমরা যখন বাঁচতে শিখেছি তখন কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তোমরা আমার ভাই, আমার উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করোনা। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি আরো রক্ত দেবো তবুও তোমাদের মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্ । পরিশেষে তিনি তার মহাকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ পংতি উচ্চারণ করলেন”””
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”
যে কোনো বিচার বিশ্লেষণে মানবিকতার বিচারে, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার বিচারে, পৃথিবীর নিপীড়িত নির্যাতিত সকল জাতি গোষ্ঠীর অধিকার ও স্বাধিকার আদায়ের বিচারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রশ্নে, সকল দিকের বিচার বিশ্লেষণে পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দেয়া ১৯৭১ এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। যে ভাষণ বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ধাবিত করে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালী জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার অবিস্মরণীয় অমোঘবাণী হিসেবেই মহাপ্রলয় অবধি কিংবদন্তী হয়ে থাকবে।

দৈনিক এরোমনি প্রতিদিন ডটকম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল