ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ নভেম্বর ২০২৩
  1. ই পেপার
  2. ক্যাম্পাস
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জাতীয়
  6. জীবনযাপন
  7. ধর্ম
  8. পাঠক কলাম
  9. পাবনা জেলা
  10. বাণিজ্য
  11. বাংলাদেশ
  12. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. বিশ্ব

কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি বিএনপি

বার্তা কক্ষ
নভেম্বর ২৮, ২০২৩ ১:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এরোমনি প্রতিবেদক :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ হচ্ছে। সরকার পতনের এক দফার ‘চূড়ান্ত আন্দোলন’ করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নেতৃত্বের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে দলটি। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের পর বাকী নেতাদের অনেকেই গ্রেপ্তারের আশংকায় আত্মগোপন করেছেন। বিশেষ করে দলটি যখন তাদের ‘সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের’ কর্মসূচি পালন করছে তখন সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার বা আত্মগোপন নতুন করে দলটির জন্য কোন সংকট তৈরি করছে কি-না সেই প্রশ্নও উঠছে।
হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়ে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতেই নেতাকর্মী ‘ঢিলেঢালা’। পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ‘লোভের টোপ’ গিলছেন সমমনা দলের কেউ কেউ। এরইমধ্যে দলের বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সমমনা দল নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কেউ কেউ যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতাদের নিয়ে ‘সরকারের সহযোগিতা’য় গঠিত কিংস পার্টি উপাধি পাওয়া সংগঠনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দাবি আদায়ে সরকারকে ‘চাপে’ ফেলতে গিয়ে এখন নিজেরাই উল্টো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের একটি ফোরাম দাবি করছে, বিএনপির ‘শতাধিক’ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়ে ‘পূর্ব-পরিকল্পিত’ভাবে তাদের নেতা-কর্মীদের সাজা দেয়া হচ্ছে।
সূত্র বলছে, গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে দলটির মহাসমাবেশ এবং ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। মহাসমাবেশের দিনে সংঘর্ষের পর থেকেই পুলিশ প্রচন্ড মারমুখী। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গণগ্রেফতার চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এক মাসেরও কম সময়ে ইতোমধ্যে দলটির ১৫ হাজার ৬০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৮৪টির অধিক। এই সময়ে আহত হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার নেতাকর্মী, মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। আর ২৭টি মামলায় ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং প্রায় ৪১৯ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী ঘরছাড়া, পলাতক, আত্মগোপনে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে অনেক নেতাকর্মী রাত্রিযাপন করছেন ক্ষেতে-খামারে, জঙ্গলে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই চায়ের দোকানে, বাসায় বাসায় দারোয়ান হিসেবে কাজ করছেন, চালাচ্ছেন রিকশা, মোটরসাইকেল।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, এমনটি যে ঘটতে পারে তা আমাদের জানাই ছিলো। এজন্য আগে থেকেই দল প্রস্তুত আছে। সে কারণে নেতাদের গ্রেপ্তার কিংবা শাস্তিতে দলে সংকট হবে না। বরং আন্দোলনর মাধ্যমেই আটক নেতারা বেরিয়ে আসবেন।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বলছেন যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘বিএনপির প্রার্থী হতে পারে এমন নেতাদেরই ‘টার্গেট করে আটক বা আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হচ্ছে’। কিন্তু দলের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা তাদের জন্য কঠিন কিছু হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার ব্যর্থ হলে তাদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। কিন্তু দল হিসাবে বিএনপি বিলীন হবে না। কারণ, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সারা দেশে অসংখ্য নেতাকর্মীর সমর্থনই দলটিকে টিকিয়ে রাখবে।
তথ্য মতে, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আন্দোলন করে শেষ মুহূর্তে ভোটে যান নেতারা। কিন্তু ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তা প্রত্যাহার করে ফের মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়।
সূত্র বলছে, বিগত কয়েক বছর ধরে দল গোছানোসহ সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে নেতারা। লক্ষ্য এবার একটাই এ সরকারের পতন। কিন্তু সরকার এমনিতেই ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না। এ অবস্থায় দাবি আদায়ে রাজপথই দলটির একমাত্র জায়গা।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১-৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। সিইসি বলেন, ‘ ‘নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।’

দৈনিক এরোমনি প্রতিদিন ডটকম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল