ঢাকাবুধবার , ২০ মার্চ ২০২৪
  1. ই পেপার
  2. ক্যাম্পাস
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জাতীয়
  6. জীবনযাপন
  7. ধর্ম
  8. পাঠক কলাম
  9. পাবনা জেলা
  10. বাণিজ্য
  11. বাংলাদেশ
  12. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বড়াল নদ ও পাউবোর জায়গা গিলছে ব্যবসায়ী

বার্তা কক্ষ
মার্চ ২০, ২০২৪ ৪:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আখিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
মো: আখিরুল ইসলাম পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল নদের পাড় ও পাউবোর জমি দখল করে চারতলা ভবন নির্মাণ করছেন রেজ্জাকুল হায়দার নামে এক ব্যবসায়ী। রেজ্জাকুল হায়দার পৌর শহরের সার ও বীজ ব্যবসায়ী। প্রায় দুই বছর আগে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করলে কয়েক দফায় বন্ধ করে প্রশাসন। পরে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই চলে ভবন নির্মাণ কাজ। বর্তমানে নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে রাজশাহীর চারঘাট পর্যন্ত বড়াল নদ বিস্তৃত। নদের এক কিলোমিটার অংশ বয়ে গেছে ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের মধ্যে দিয়ে। নদের দুই পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত পাউবোর আওতাধীন সমতল জায়গা রয়েছে। উপজেলা সদরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা আশির দশকে এসব জায়গা দখল করে অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করে দোকান করেন। পরবর্তীতে দখলদাররা একতলা ও দোতলা ভবন করে মার্কেট নির্মাণ করেন। পাউবোর এসব জায়গা, নদীর পাড়  ও মার্কেট কোটি টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া দোকান ভাড়া থেকেও আয় করেন দখলদাররা। দু’বছর আগে বাজারের ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ ও সাইফুল ইসলাম অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে পাউবোর জায়গায় নির্মিত এক হাজার স্কয়ার ফিটের একটি দোতলা মার্কেট ক্রয় করেন।
জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রেজ্জাকুল হায়দার বাজারের মধ্যে রেল ও পাউবোর জায়গা দখল করেন। সেখানে তিনি আবাসিক হোটেল এবং দোকান করে ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আয় করতেন। ওই ভবনে তিনি নিজেও সারের গোডাউন নির্মাণ করে প্রায় তিন যুগ ধরে ব্যবসা করছেন।এ অবস্থায় দুই বছর আগে তিনি পুরাতন ভবন ভেঙে পাঁচতলা ভবনের ভিত দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে তিনি পাউবোর জায়গার পাশাপাশি রেলের জায়গাও দখল করেন। আর ভবন বিস্তৃত করতে তিনি বড়াল নদ দখল করতেও দ্বিধা করেননি।
এদিকে দুই বছর আগে এই ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ভবনের একতলা নির্মাণ করার পর স্থানীয় প্রশাসন রেজ্জাকুল হায়দারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পরে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে আবারো কাজ শুরু করে দোতালার কাজ সম্পূর্ণ করেন রেজ্জাকুল হায়দার। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগে আবারো তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে এসে ভবন মালিকের নিজ দায়িত্বে ভেঙে নিতে লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি রেজ্জাকুল হায়দার। এক বছর পরে তিনি আবারও চার তলার ছাদ ঢালাই সহ অন্যান্য কাজ করে ফেলেন। এরপরে স্থানীয় প্রশাসন আবার এসে তার ভবনটি লাল রং ক্রস চিহ্ন দিয়ে নোটিশ জারি করেন। এতে কাজ বন্ধ হয়। তবে গত সপ্তাহে রেজ্জাকুল হায়দার আবারও ভবনের কাজ শুরু করেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রধান সড়ক ঘেঁষে প্রায় ৩0 ফুট প্রশস্ত এবং ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন রেজ্জাকুল হায়দার। এর মধ্যে ভবনের প্রায় ৩০ ফুট বড়াল নদের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বড়াল নদের মধ্যেই পয়:নিষ্কাশন ও সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করেছেন তিনি। অথচ নদীর অপর পাশেই রয়েছে পৌর ভূমি অফিস। ভূমি অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করে এই ভবনের নির্মাণ কাজ চলে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়ে রেজ্জাকুল হায়দার বলেন, বেশ কয়েকবার প্রশাসনের লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে ভেঙে তো আর দেয়নি। তাই চারতালা ভবনটি  এখন শেষ পর্যায়ে ফিনিশিং এর কাজ করছি।
ভাঙ্গুড়া পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আমার অফিসের অদূরে হলেও ভবন নির্মাণের বর্তমান কাজ চোখে পড়েনি। এর আগে কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে বিষয়টি জেনে এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, দ্রুত ওই অবৈধ ভবন নির্মাণকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে পাবনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দৈনিক এরোমনি প্রতিদিন ডটকম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল