ঢাকারবিবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  1. ই পেপার
  2. ক্যাম্পাস
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জাতীয়
  6. জীবনযাপন
  7. ধর্ম
  8. পাঠক কলাম
  9. পাবনা জেলা
  10. বাণিজ্য
  11. বাংলাদেশ
  12. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আটঘরিয়ায় বাঁশঝাড় উদ্ধার তমা হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেফতার: হত্যার গোমর ফাঁস

পলাশ হোসেন
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৪ ৪:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার তমা হত্যার ঘটনায় আদম আলী নামে এক ব্যক্তিকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। ২৮ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৪ডিসেম্বর আটঘরিয়া থানাধীন একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের হাসেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে কামরুন নাহার তমা (২০) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে আটঘরিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আটঘরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর আসামী গ্রেফতারে মাঠে নামে র‍্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনা।
র‍্যাব-১২ এবং র‍্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল র‍্যাবের একটি যৌথ আভিযান দল র‍্যাব সদর দপ্তর, ইন্ট উইং এর সহায়তায় গত ২৮ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানাধীন আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান কালে কামরুন নাহার তমা (২০) হত্যা মামলার পলাতক আসামী আদম আলী (৫৫), পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম, সাং-ষাটগাছা,থানা-আটঘরিয়া,জেলা-পাবনাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর তথ্য। ভিকটিম তমার মা জানান, ষাইটগাছা গ্রামের সাবেক মেম্বার আদম আলী আমার ভাসুর হওয়ার সুবাদে নিয়মিতই আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো । আমার স্বামীর আমি ছাড়া আরো দুইটা স্ত্রী রয়েছে, যার কারণে বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করত ।আর সেই বিচার সালিশ করতে আসতেন আমার ভাসুর আদম আলী। একদিন আমার বাড়িতে এসে আমাকে একা পেয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোরপুর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে বিভিন্ন সময় আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইল করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন, আমাকে বলতেন কেউ কিছু জানতে পারলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো।

প্রতিবারের মতো সেদিন ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ সোমবারে আমার বাড়িতে আসে আমার ভাসুর আদম আলী,সেদিন আমার মেয়ে তমা তাকে চা বানিয়ে খাওয়ায়। তারপরে বেড়ানোর কথা বলে তমাকে নিয়ে যায় আদম আলী। পরে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলে তমা বাড়িতে না আশায়,আমি আদমকে বার বার মোবাইলে কল দিতে থাকি কিন্তুু সে কল রিসিভ করে না ! পরে আমার স্বামী নায়েব আলী কাজে থেকে বাড়িতে আসলে আমি তার কাছে সবকিছু খুলে বলি। তমার বাবা নায়েব আলী জানান, আমার চাচাতো ভাই আদম আলীকে আমি বেশ কয়েকবার কল দেওয়ার পরে তিনি রিসিভ করে বলেন আমি তোমার মেয়ে তমাকে বিস্কুট কিনে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি । একথা শুনে আমি পাগলের মত আমার মেয়েকে খুঁজতে থাকি কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাইনা। পরের দিন ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আমার বাড়ির পাশে জঙ্গলে খুঁজতে থাকি। পরে হাচেন আলীর বাঁশ ঝোড়ে গেলে দেখতে পাই আমার মেয়ে পড়ে আছে,মেয়ে তমাকে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়।আদম আলী এবং তার ভাই আজাদ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয় নিজের ছোট ভাইকে হত্যা করার মাধ্যমে । এলাকায় শালিস বিচারের নামে চাঁদাবাজি, এলাকার মানুষকে মারধোরসহ বিভিন্ন অপরাধ করে তারা ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার এক ব্যক্তি জানান, আদম-আজাদ ও তাদের সন্ত্রাসী দল এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে গভীর রাতে চলে যায় তাদের বাড়িতে। আমরা সাধারন জনগন তাদের থেকে মুক্তি চাই। আদম তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তার দুই ছেলেকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে। একই এলাকার রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে খুন করার পর আস্তে আস্তে তারাও ভয়ংকার সন্ত্রাসী উঠে। এদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যেন সিনেমাকেও হার মানায় ।

আদমের বড় ছেলের নাম সাগর এবং মেজো ছেলের নাম শাহীন। শাহিন আর সাগর মিলে তৈরি করেছে একটি গ্যাং, সেই গ্যাং এর মাধ্যমে তারা এখন এলাকায় সন্ত্রাসী রাজ্যের রাজা । তথ্যসূত্রে জানা গেছে,আদম আলী বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও,আওয়ামী লীগ সরকার থাকা কালীন আওয়ামী লীগ পন্থী কিছু নেতাকর্মীদের হাত করে এলাকায় টিকে ছিলেন।

দৈনিক এরোমনি প্রতিদিন ডটকম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল