সেবনকারীরা প্রতিদিন একই ফার্মেসি ডাক্তার মোঃ আল আমিন। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।
বিশেষ প্রতিনিধি:মো: আখিরুল ইসলাম : পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চিতুলিয়া বাজারে ডাক্তার মো: আল আমিন ফার্মেসিতে কোনো নিয়মনীতির তুয়াক্কা ছাড়াই স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর কাছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট।এই ফার্মেসির লোকদের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠায় ক্রয়ে কোনো বিপত্তি ঘটে না। তাই প্রতিনিয়তই বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ঘুমের ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে স্বল্পমূল্যে। সেবনকারীরা প্রতিদিন একই ফার্মেসি থেকে ২-৩ পাতা ঘুমের ট্যাবলেট ক্রয় করছে। প্রকাশ্যে প্রেসক্রিপশনবিহীন এসব ওষুধ বিক্রি করে অসাধু ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ মূল্যও আদায় করছেন।
ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া এক স্কুল শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওই দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কেনেন বলে দাবি করেছিলেন। তিনি আরো বলেন,ওই ঘুমের ওষুধ আমার জন্য নয়,আমার খালার জন্য।
তবে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তি বলেন,সেভেনে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর কাছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া একপাতা ঘুমের ওষুধ বিক্রি করেন ডাক্তার আল আমিন। শিক্ষার্থী ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্য শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে শিক্ষকদের কাছে জানালে বিষয়টি খুতিয়ে দেখলেই দেখতে পান শিক্ষার্থীর কাছে ঘুমের ট্যাবলেট।পরে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
এলাকা জুড়ে তোলপাড় শিক্ষার্থীর হাতে ঘুমের ওষুধ দেখে শিক্ষক ও অভিভাবক নিয়ে গোপনে পারিবারিকভাবে ফার্মেসির মালিক ডাক্তার আল আমিন এর সাথে একটি বৈঠকের কথা থাকলেও এখনো করা হয়নি বৈঠক।
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট থাকায় এবং মানুষের সচেতনতার অভাবকে পুঁজি করে বছরের পর বছর রোগী দেখে যাচ্ছেন তারা। রোগমুক্তি তো দূরের কথা,এসব ওষুধ খেয়ে নানান জটিলতায় ভুগছেন হাজারো রোগী। এছাড়া মাঝেমধ্যেই তাদের ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা যাওয়া মতো ঘটনাও নিত্যদিনই ঘটছে। এমনকি স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও তাদের শিকার। প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ তা-ই প্রকাশ্যে বিক্রি এক বারের জন্যও কেউ বিক্রির আগে প্রেসক্রিপশন দেখতে চাইছেন না।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ঔষধ নিষিদ্ধ এ বিষয়ে ডাক্তার মো: আল আমিন বলেন,স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছে ঘুমের ওষুধ দিয়েছি, তাতে কি এমন হয়েছে আপনারা যা পারেন, তাই লেখেন।
স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সত্যতা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন দিলে আমি স্কুলে যাই, স্কুলে গিয়ে দেখি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অবস্থা খুবই খারাপ দেখে তাদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে প্রশাসনের কাছে ডাক্তার আল আমিন ও ডাক্তার রোহিজের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোছা: সিরিন সুলতানা কে, মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দৈনিক এরোমনি প্রতিদিন ডটকম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল

